ওমিক্রন এর লক্ষণ ও প্রতিকার

শীতে কালে সাধারণ ঠান্ডা লাগা ভেবে করোনা ভাইরাস ওমিক্রনকে এড়িয়ে যাচ্ছেন না তো ?

ওমিক্রন এর লক্ষণ ও প্রতিকার, করোনার নতুন রূপ ওমিক্রনে বিশ্বজুড়ে জবুথবু
 হয়ে আছে। অনেক গবেষক ওমিক্রনকে করোনার শেষ ধাপও বলছেন। তবে ওমিক্রনের উপসর্গগুলি তুলনামূলকভাবে কম সক্রিয় হওয়ায় আগের দু’বারের তুলনায় হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যাটা শতাংশ হারে বেশ কম। ওমিক্রনের কোনও একটিও উপসর্গ দেখা দিলে একেবারে হালকা ভাবে নেওয়া ঠিক না।
 

ওমিক্রনের সাধারণ লক্ষণগুলি বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক:

 

আমেরিকার ‘সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশন অ্যানালাইসিস’এর অনুসারে, কাশি, অত্যধিক ক্লান্তি, নাক বন্ধ এবং নাক দিয়ে জল পড়া ওমিক্রন রূপের সাধারণ উপসর্গ। এছাড়াও হালকা জ্বর, ঘামাচি, শরীরে ব্যথা,অতিরিক্ত ঘামও ওমিক্রনের উপসর্গ।
ওমিক্রন এর লক্ষণ ও প্রতিকার
 
লন্ডনের কিংস কলেজের জেনেটিক এপিডেমিওলজির অধ্যাপক টিম স্পেক্টর একটি জরিপের মাধ্যমে জানিয়েছেন, এই রোগে লক্ষণ আক্রান্ত রোগীদের বমি বমি ভাব,দম বন্ধ হয়ে আসা, বমি হওয়া, খিদে হ্রাস পাওয়ার মতো উপসর্গও দেখা দিচ্ছে।
এ ছাড়াও ওমিক্রনের আরও কিছু উপসর্গ সামনে এসেছে যেগুলি আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে শীতকালীন ঠান্ডা লাগার কারণে হচ্ছে, কিন্তু এগুলিও ওমিক্রন সংক্রমণের ইঙ্গিত হতে পারে
১) গলা চুলকানো বা গলা জ্বালা।
২) মাথা ব্যথা।
৩) ঘন ঘন নাক বন্ধ হয়ে আসা ।
উপরের কোনও একটি বা দুটি বা ততোধিক উপসর্গ আপনার মধ্যে দেখা দিলে এক মুহূর্ত দেরি না করে অতি অবশ্যই করোনা পরীক্ষা করিয়ে নিন। ফলাফল পজিটিভ এলে আলাদা কোয়ারেন্টিনে থেকে চিকিৎসা নিন।
 
এই সকল লক্ষণ দেখা দিলে প্রাকৃতিক ভাবে আপনি যা করতে পারেন 
 
করোনার ভ্যাকসিন এই variant কে কতটা আটকাতে পারে, তা নিয়ে এখনও সংশয় রয়েছে। কারও কারও মত কোভিডের এই নতুন রূপটি ততটাও ভয়ঙ্কর নয়। কিন্তু এর পাশাপাশি চিকিৎসকরা বলছেন, ‘লং কোভিড’-এর মতো উপসর্গ এই ওমিক্রনেও হচ্ছে। ফলে ভয়ের যথেষ্টই কারণ আছে। ফলে ওমিক্রন সংক্রমণ যত দূর সম্ভব ঠেকানোর চেষ্টা করা উচিত। আ এ জন্য রোগ প্রতিরোধ শক্তি বা Immunity যত বেশি ,হবে, ততই ভালো।
 
 
আমাদের শরীরের সকল T-cells ভাইরাস আক্রান্ত কোষগুলিকে নষ্ট করে। এই T-cells যত শক্তিশালী হবে, রোগ প্রতিরোধ শক্তি ততই বাড়বে। ওমিক্রনের এই বাড়াবাড়ির মধ্যে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়াবেন কীভাবে? বিশেষজ্ঞ ‘লিউক কুটিনহো’ সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে দিয়েছেন তেমনই কয়েকটি টিপস:
 
ভিটামিন ডি-র ঘাটতি না হয় (Vitamin-D is the Key for it):
ভিটামিন ডি এই টি-সেল-কে জোরদার করতে খুব কাজ করে । যে সমস্ত খাবারে পর্যাপ্ত পরিমাণে এই ভিটামিন রয়েছে, সেগুলি খেতে পারলে ভালো। তার মধ্যে রয়েছে সামুদ্রিক মাছ, শাকসব্জি, ডিম, দুধ । এছাড়াও দিনের কিছুটা সময় রোদে কাটানো যেতে পারে।
 

ঘুম অত্যন্ত দরকারি (The power of sleep):

রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ানোর জন্য ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।রোজ নিয়ম করে ৮ ঘণ্টা ঘুমোলে শরীর বিভিন্ন রোগের সঙ্গে লড়াই করার শক্তি জোগাতে পারে। টি-সেলও শক্তিশালী হয় এতে।

 

শরীরচর্চা, পুষ্টিকর খাবার (Exercise moderately, eat well): 

রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়াতে হাল্কা শরীরচর্চাই অবশ্যই করতে হবে। বেশি শরীরচর্চা বা এক্সারসাইজ করার দরকার নেই। এর পাশাপাশি ভিটামিন সি এবং জিংক যুক্ত খাবার খান। লেবু, আদা, রসুন, হলুদ, মধু, তুলসী, বেল, কলা, পেয়ারার মতো খাবার রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। 

ওমিক্রন এর লক্ষণ ও প্রতিকার

ব্রিদিং এক্সারসাইজ (Breathing exercises):

মন শান্ত থাকলে, রাতে ভালো ঘুম হলে রোগ প্রতিরোধ শক্তি অবশ্যই বাড়ে। ব্রিদিং এক্সারসাইজ এ বিষয়ে সাহায্য করতে পারে। প্রতিদিন নিয়ম করে মিনিট ১০ মিনিট ব্রিদিং এক্সারসাইজ করুন।

 

প্রচুর পরিমাণে পানি খান (Stay more hydrated):

শুধু চা বা কফি খেয়ে থাকলে হবে না। দিনে অন্তত তিন থেকে চার লিটার বা ১২ গ্লাস পানি খান। আর এমন খাবার এড়িয়ে চলুন, যেগুলি শরীর শুকিয়ে আনে। অ্যালোহল, অতিরিক্ত ভাজাভুজি, ময়দার খাবার এড়িয়ে চলুন ।

জীবনযাত্রায় বদল আনুন (Change your lifestyle):

খুব ওষুধ নির্ভর জীবন কাটান ? সম্ভব হলে সেটি বদলাবার চেষ্টা করুন। ধূমপানের আসক্ত থাকলে, সেটিও দ্রুত ত্যাগ করুন। আর মানসিক ভাবে শান্ত থাকার চেষ্টা করুন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অবশ্যই বাড়বে।